প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত মতবাদ Alterium non laedere এর উপর ভিত্তি করিয়া আধুনিক কালের টর্ট আইনের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটিয়াছে। এই মতবাদের অর্থ হইলো কথায় ও কাজে কাহারো ক্ষতি না করা। সুতরাং কথায় ও কাজের দ্বারা কাহারো বৈধ অধিকার লংঘিত হইলে টর্ট আইনের আওতায় উক্ত ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি সাধারন আইনের মাধ্যমে উহার প্রতিকার পাইতে পারে। তাই টর্ট আইনের মূল উদ্দশ্য হইলো, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিকে আর্থিক ক্ষতিপূরন প্রদান করা। তাই জি,উইলিয়াম (G.Willam)তাহাঁর The aims of the Law of Torts পুস্তকে যথার্থই বলেন যে,The principle object of the law of Tort is to give compensation to victims or their dependants.সর্বোপরি Tort-feasor বা টর্ট সংঘটনকারী যদি জঘন্য টর্ট করে তবে আইনের আওতায় তাহাকে দৃষ্টান্তমুলক সাজা প্রদান করা হয়। অর্থাৎ টর্ট আইনের অন্যতম উদ্দশ্য হইলো ক্ষেত্র বিশেষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বা ক্ষতিপূরন দেওয়া
তাই জি,উইলিয়াম আবারও বলেন যে,Grant of exemplary damages in certain case will show that deterrence of wrong doer is also another aim of the Law of Tort.টর্টের পরিধিঃ-(ক)টর্ট হইলো একটি দেওয়ানী অপরাধ।কোন ফৌজদারী আদালত এই অপরাধের বিচার করেনা। (খ)ক্ষতিপূরন করা হইল টর্ট আইনের মূল উদ্দশ্য।(গ)টর্ট দেওয়ানি অপরাধ হইলেও বৈশিষ্টের দিক হইতে চুক্তিভঙ্গ,বিশ্বাস ভঙ্গ এবং ন্যায়গত বাধ্যবাধকতা হইতে ভিন্ন।(ঘ)টর্টের বিষয়গুলি নৈতিকতাপূর্ন মনে হলেও টর্টে ক্ষতিপূরনের বিধান রয়েছে, তবে নৈতিকতা কাজের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা যায়না। (ঙ)টর্ট আইন কথায় ও কাজের দ্বারা কাহারো ক্ষতি হইলে তাহাকে ক্ষতিপূরন দেওয়ার ব্যবস্থা করিয়া থাকে। (চ)টর্টের মামলা অনির্ধারিত আর্থিক ক্ষতিপূরন আদায়ের জন্য দাখিল করা হইয়া থাকে। লেখকঃ ডক্টর এম,এমদাদুল হক, আইনজীবী,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, সেল নাম্বার ০১৭২৫-৬৪৭২৬১, ০১৯১২-৮৮০১৭৩.
Leave a Reply