বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মানব মানবী,স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক দারুন টালমাটাল। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য জীবনকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চরম হুমকির মুখে,যারদরুন পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে নিরবে নিভৃতিতে তৈরী হচ্ছে এক অপূরনীয় গভীর ক্ষত। একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের লক্ষেই ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রবর্তন করা হয়।পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার মূলতঃ(ক)বিবাহ ভঙ্গ (খ)দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার (গ)দেনমোহর(ঘ)খোরপোষ(ঙ)সন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্বাবধান সম্পর্কিয় মোকাদ্দমা গ্রহন করন এবং বিচার নিষ্পত্তি করন।পারিবারিক আদালত পারিবারিক আইনের আলোকেই বিচার নিষ্পত্তি করে থাকেন। আজ আমরা দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার (Restitution of conjugal rights) নিয়ে আলোচনা করবো। দাম্পত্য অধিকার বা সম্পর্ক পুনরুদ্ধার মামলা ঃ- যদি স্ত্রী কোনরুপ আইনসঙ্গত কারন ছাড়া তাহার স্বামীর সাথে একত্রে বসবাস না করে বা বসবাস করতে অনীহা প্রকাশ করে তখন স্বামী দাম্পত্য অধিকার পূনরুদ্ধার চেয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন,কিন্তু ইহার দুইটি ব্যতিক্রম আছে যেমন(ক)বিবাহটি স্ত্রীর ইদ্দতকালে অনুষ্ঠিত হলে এবং দাম্পত্য মিলন ঘটে থাকলেও স্বামী দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য কোন আদেশ বা ডিক্রি পাবেনা।(খ)স্ত্রীর নাবালকত্বকালে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর যদি বৈধভাবে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে থাকে তাহলেও স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোন ডিক্রি পাবেনা। স্ত্রী যদি আদালতে দেখাতে পারে যে স্বামী তার সাথে নির্দয় নিষ্ঠুর ব্যবহার করেছেন তাহলে স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিক্রী পাবেনা। দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলায় বাদীকে অবশ্যই প্রমান করতে হবে যে সে নির্দোষ ও ভালো মনোভাব নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।দাম্পত্য অধিকার মোকাদ্দমার অন্যতম শর্ত হলো বৈধ বিবাহের অস্তিত্ব বিদ্যমান। দাম্পত্য মিলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে দাম্পত্য অধিকারের মামলা করলে সেক্ষেত্রে দেনমোহর অপরিশোধিত আছে প্রকাশ পেলে স্বামীর আনীত মামলা নাকচ হয়ে যাবে, কিন্তু স্ত্রীর অবাধ সম্মতিক্রমে দাম্পত্য মিলন ঘটেছে মর্মে প্রকাশ পেলে ‘আশু দেনমোহর’ প্রদানমূলক শর্তমূলক দাম্পত্য অধিকারের ডিক্রী প্রদান করা যাবে। লেখক: ডক্টর এম,এমদাদুল হক, আইনজীবী,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ০১৭২৫-৬৪৭২৬১. ০১৯১২-৮৮০১৭৩
Leave a Reply