রমজান আসতে আর বেশি দেরি নেই। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাসের সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন আনলে রমজানের প্রথম দিকের ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা জানান, যারা নিয়মিত চা, কফি বা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় পান করেন, তাদের উচিত ধীরে ধীরে ক্যাফেইন ও চিনি কমিয়ে আনা। এতে রোজার শুরুতে ক্যাফেইনের অভাবে সৃষ্ট মাথাব্যথার ঝুঁকি কমবে।
এছাড়া হঠাৎ করে রোজা শুরু না করে এখন থেকেই খাবারের সময় ও পরিমাণে কিছুটা পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরের খাবারে নিয়ন্ত্রণ আনলে শরীর দ্রুত নতুন রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।
খাদ্যতালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। এসব খাবার হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
রমজানে পানিশূন্যতা একটি বড় সমস্যা। তাই আগে থেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে শরীর আর্দ্র থাকবে এবং রোজার সময় দুর্বলতা কম অনুভূত হবে।
ঘুমের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন জরুরি। সাহরির জন্য শেষ রাতে উঠতে হয় বলে এখন থেকেই তাড়াতাড়ি ঘুমানো এবং ভোরে ওঠার অভ্যাস করার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ সতর্কতার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন। বয়স্কদের পানিশূন্যতা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। যারা প্রথমবার রোজা রাখবে, সেই শিশুদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের রোজা শুরুর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ওষুধের ডোজ ও খাবারের পরিকল্পনা আগেই নির্ধারণ করা উচিত।
শরীর সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত হালকা শারীরিক কার্যক্রম রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে এবং রোজার দিনগুলোতে শক্তি জোগাতে সহায়তা করে।
Leave a Reply