সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে ডা. আব্দুল আজিজ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার ভাই ও স্বজনরা বেপোরোয়া হয়ে ওঠেছে। সরকারী জমি, পুকুর দখল, টিআর, কাবিখা লুটপাট ও চাকুরী নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিসহ নানা নির্যাতন শুরু হয়। স্থানীয়রা বলছেন, এমপি আজিজের ছোট ভাই এ্যাড. নুরুল ইসলাম ওকালিতে ছেড়ে তাড়াশে এসে এমপির প্রশ্রয়ে এখন দুর্নীতি বেপোরোয়া হয়ে ওঠছে। আর ভাইকে দিয়ে বিভিন্নভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়ে সিংহভাগ সংসদ সদস্য এমপি পকেটস্থ করছেন। বর্তমানে এ্যাড. নুরু তাড়াশের সাধারন মানুষের কাছে মুর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি তাড়াশের মহিষলুটি এলাকায় এ্যাড. সহযোগি মিজানুর রহমান ও আব্দুর রহিমকে পার্টনার করে ২৪ বিঘা মালিকানা জমি চার বছরের জন্য লিজ নেয় এবং জোরপুর্বক ২ বিঘা সরকারী খাস জমি নিয়ে পুকুর খনন করে। পার্টনারে পুকুর খননের খরচ বাবদ এমপির ভাই কুখ্যাত নুরুল ইসলাম দেয় ৩ লক্ষ টাকা, আব্দুর রহিম দেন ৮ লক্ষ টাকা ও মিজানুর রহমান দেন ৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা দেন। পুকুর খনন শেষ হবার পর নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে কুখ্যাত নুরু। পুকুর একাই দখলে নেয়ার জন্য মিজানুর রহমানকে সরে যেতে চাপ দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় বুধবার কতিপয় ছাত্রলীগের ক্যাডার নিয়ে মিজানুর রহমানকে আটক করে। এ সময় তাকে ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা নিয়ে পুকুর তার নামে লিখে দেয়ার চাপ দেয়। রাজি না হওয়ায় নুরু তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় মিজানুর রহমান কৌশলে পালিয়ে যায়। বর্তমানে সে আতঙ্কে দিনযাপন করছেন। কুখ্যাত নুরু এমপির ভাই হওয়ায় প্রশাসনের কাছে যেতে সাহস পাচ্ছে না। এছাড়াও তাড়াশের বিভিন্ন ইউনিয়নের টিআর, কাবিখার টাকা লুটপাটের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। সরকারী জমি দখল করে পুকুর নির্মাণ করায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছে। কিন্তু এমপির ভাই বলে প্রশাসনে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। এছাড়া টিআর কাবিখা লুটপাটের অভিযোগেও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার খাস পুকুর লিজের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই নুরু।
এ বিষয়ে মিজানুর রহমান জানান, আমি বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে আছি। মুখ খুলতেই ভয় পাচ্ছি। শুধু এইটুকু বলছি পুকুর নুরুর নামে লিখে না দিলে আমাকে হত্যা করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে এ্যাড. নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলতে অপারগতা প্রকাশ করে জানান, আমি কাউকে হুমকি দেয়নি।
Leave a Reply