বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৩৭
Baking News
রমজানের আগে শারীরিক প্রস্তুতি নিন এখনই: ক্লান্তি ও মাথাব্যথা এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ঢাকার ২০ আসনে বিএনপি ১৩টিতে, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ঐক্য ৭টিতে জয়ী নিরঙ্কুশ বিজয় গণতন্ত্রের বিজয়’ — বিএনপির আনন্দোল্লাস সরকার গঠনের পথে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী শফিকুর রহমান নির্বাচিত হলে জাতিকে বিভক্ত হতে দেবো না আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ছাপানো হচ্ছে ২৬ কোটি ব্যালট পেপার মঞ্চে তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের ঢল ময়মনসিংহে সমাবেশ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ চান না কর্মকর্তারা এ বছর অবসরে যাচ্ছেন ১৬ সচিব, আগামী বছর ২৫ অফিস গুছিয়ে নিচ্ছেন ইসিরা চলে যাবেন ১৪ ফেব্রুয়ারি, নতুন ইসি নিয়ে জল্পনা ৫নং লক্ষিপাশা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী কে এম ফজলুল হক এর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা মিকু বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় নড়াইল জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অভিনন্দন সরকারের সমালোচকরা জনগণের দুঃখ দুর্দশা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকে: ওবায়দুল কাদের লকডাউনে কঠোরতা অব্যাহত বাড়তে পারে আরও সাত দিন শাস্তি জরিমানা সবকিছুর পরও রাস্তায় গাড়ি ও মানুষ বেড়েছে বিস্ফোরণে মুহূর্তেই সব লণ্ডভণ্ড মিলেছে গ্যাসের উপস্থিতি, হাসপাতালে আহাজারি, মর্গে মাতম ১৪টি ভবন ও তিনটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত, তিন তদন্ত কমিটি হৃদরোগে প্রতিবছর মারা যায় ২ লাখ ৭৭ হাজার আজই বসবে ৩৩তম স্প্যান আবহাওয়া ঠিক থাকলে নুর গংদের দ্বারা শুরু হওয়া ধ’র্ষণ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে : ছাত্রলীগ সভাপতি জয় বাংলাদেশে সফরে আসছেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্ষণের শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ চেয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ ছাত্রলীগ নেতার! নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন; প্রধান আসামি গ্রেফতার
Headline :
আবারও বিস্ফোরণে কাঁপল দুবাই, দোহা ও মানামা: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা সৌদি আরবে আবারও ড্রোন হামলা, ইরানের দিকে অভিযোগের আঙুল উত্তর ইসরায়েলের বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি হিজবুল্লাহর বগুড়ায় নির্ধারিত সফর স্থগিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানে ছাত্রীদের স্কুলে হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৮ তেল আবিবে দফায় দফায় বিস্ফোরণ, হামলার আশঙ্কায় সতর্কসংকেত মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলার দাবি ইরানের যতদিন প্রয়োজন, ইরানে বোমা হামলা চলবে: ট্রাম্পের ঘোষণা খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্বে কে? খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত করল ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ৯ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আজ শুরু প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৪৪৭ হিজরিতে ফিতরার হার ঘোষণা: জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০, সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পিলখানা ট্র্যাজেডি: নিহত সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: আজ জাতীয় শহীদ সেনা দিবস অল্প বয়সেই বাড়ছে যে কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণপ্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন দৈনিকসিলেট ডেস্ক স্ট্রোক মানেই কেবল বৃদ্ধ বয়সের রোগ—এই ধারণা এখন অতীত। চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ৫০ বছরের কম বয়সী যুবক-যুবতীদের মধ্যে স্ট্রোকের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মূলত আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়ম এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই এই মরণব্যাধির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার প্রধান কারণগুলো হলো- চিকিৎসকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রায় আসা বেশ কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন এই বিপদের মূল কারণ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও স্থূলতা : অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension) এবং ডায়াবেটিস এখন তরুণদের মধ্যে অতি সাধারণ সমস্যা। তথ্যমতে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের একটি বড় অংশ উচ্চ রক্তচাপের শিকার, যা স্ট্রোকের প্রধান অনুঘটক। ভুল খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অলসতা : ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক এবং কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাব হার্টের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। ধূমপান ও মাদকাসক্তি : ধূমপানের পাশাপাশি অতিরিক্ত মদ্যপান এবং বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবহার রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে রক্ত জমাট বাঁধতে (Blood Clot) সহায়তা করে। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা : পেশাগত বা ব্যক্তিগত জীবনের তীব্র মানসিক চাপ, উদ্বেগ (Anxiety) এবং বিষণ্ণতা পরোক্ষভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।শারীরিক জটিলতা : গর্ভাবস্থাকালীন বা প্রসব-পরবর্তী বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এবং জন্মগত হার্টের ত্রুটিও অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি : বর্তমানে এমআরআই (MRI)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন অনেক ক্ষুদ্র স্ট্রোকও (Silent Stroke) ধরা পড়ছে, যা আগে অজানাই থেকে যেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এই মরণঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে। ১. সুষম আহার : খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। ২. নিয়মিত ব্যায়াম : শরীর সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চা করুন। ৩. মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন : স্ট্রেস কমাতে যোগব্যায়াম বা ধ্যানের (Meditation) সাহায্য নিন। দৈনিক অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। ৪. নেশা বর্জন : ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। এটি রক্তনালীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। ৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা : রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা জানতে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা শরীরের যে কোনো একপাশ অবশ হওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা তীব্র মাথাব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে মুহূর্ত দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত মূল্যবান। সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে না এলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: আইন ও বিচার বিভাগের নতুন অফিস আদেশ কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ, দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক রোজা শেষে স্বস্তি পেতে ইফতারে রাখুন ৫ মৌসুমি ফল
রিপোর্টারের নাম
  • Update Time : জুন, ১৯, ২০২০, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
  • 337 Time View

ফেরদৌসী মজুমদার। অনন্য এক অভিনয়শিল্পী। মঞ্চেই তিনি প্রথমা, মঞ্চেই তিনি প্রথিতযশা এবং মঞ্চেরই তিনি প্রাণ। আমাদের অভিনয় জগতের অন্যতম দিকপাল। এ দেশে থিয়েটারের যাত্রা তিনি এবং তারই মতো অসাধারণ কিছু মানুষের হাত ধরেই যাত্রা শুরু করেছিল। তাকে ছাড়া আমাদের থিয়েটার কল্পনাতীত। বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের মঞ্চনাটক আর ফেরদৌসী মজুমদার একে অন্যের পরিপূরক। বলা ভালো মঞ্চের সম্রাজ্ঞী তিনি। হাজারেরও বেশিবার মঞ্চে আলো ছড়িয়েছেন এই ব্যক্তিত্ব। অবশ্য অসংখ্য টিভি নাটকের অভিনয় দিয়েও নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশের মঞ্চ ও টেলিভিশনে তার নানা ধরনের স্মরণীয় চরিত্রচিত্রণ এখনো দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এর মধ্যে পার করেছেন অভিনয় জীবনের ৫০ বছর। এই ৫০ বছরে বাংলাদেশের নাট্যজগতে তৈরি হয়েছে তার স্বতন্ত্র একটি অবস্থান। মঞ্চ-দূরদর্শন-বেতার-চলচ্চিত্র-সাহিত্য শিক্ষা প্রভৃতি মাধ্যমে ফেরদৌসী মজুমদারের বলিষ্ঠ উপস্থিতি ধূমকেতুর আলোর রোশনাই ছড়িয়ে বিলীন হয়ে যাওয়া নয়, ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করে চিরন্তন জ্বলছেন। তিনি এখনো অপরকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাচ্ছেন।
একুশে পদকজয়ী অনন্য এই শিল্পীর করোনাকাল কেমন কাটছে ভোরের কাগজের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনাকালে আমার অনেক কাজ বেড়ে গেছে। আমি সানবীম স্কুলে শিক্ষকতা করি। যে কারণে সময়াভাবে ঘরের কোনো কাজই করতে পারতাম না। এই করোনাকালে ঘরদোর একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার চেষ্টা করছি। রান্না-বান্নাও করতে হচ্ছে। কারণ এখন কাজের সহকারীও তো নাই। অবশ্য এটা একদিক থেকে ভালোই। আগে ওরাই সব করত। মাঝে আমার কোনো কাজই করা হতো না। এখন আবার করতে হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন জনের অনুরোধে বাড়িতে থেকে একটু-আধটু অভিনয় করে তা ভিডিও করে পাঠাচ্ছি। এর ফাঁকে একটা অনুবাদের কাজে হাত দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ করতে পারিনি। এতো বিশাল বিশাল জ্ঞানীগুণীজন মারা যাচ্ছেন তাদের সম্পর্কে লিখেছি। মনের অবস্থা একেবারেই ভালো নয়। ধীরে ধীরে সব নিভে যাচ্ছে। সামনে তো কোনো আলো নেই। ভেতরটা বড্ড এলোমেলো হয়ে আছে। মনে শান্তি নেই। যে কারণে সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশও করা যাচ্ছে না। তবে বইপত্র পড়ছি। পাশাপাশি আমার স্কুলের লেসনপ্ল্যানগুলো দেখছি। এখন অনলাইনে ক্লাস চলছে। যে কোনো সময় স্কুল খুলে যেতে পারে।
নাটক নিয়ে কিছু ভাবছেন কিনা জানতে চাইলে বরেণ্য এই শিল্পী বলেন, নাটকের কথা এখন ভাবছিই না। এখন বাঁচার কথাই ভাবছি। যদিও আমি অভিনয় ভালোবাসি। এর জন্যই বেঁচে থাকার সাহস পাই। অভিনয় আমার উপাসনা। আসলে যে কোনো কাজেই নিষ্ঠা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এ মুহূর্তে বাঁচার কথাটাই যেন মুখ্য হয়ে উঠেছে।
করোনার এই সময়টাতে আপনার চেনা পৃথিবীর কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন, তা কেমন? জবাবে ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, আমাদের দেশের মানুষ তো মোটেও সচেতন নয়। এক্ষেত্রে করোনার অভিঘাত একদিক থেকে খুবই ভালোই হয়েছে। মানুষ বিধি মতো স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জীবনযাপন করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ডাক্তারের পরামর্শমাফিক চলার চেষ্টা করছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাটা কতটা দরকার অন্তত মানুষের সেই উপলব্ধিটা হচ্ছে। প্রতিবার হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক লাগানোর এই অভ্যাসটা পালন করতে থাকলে একসময় অভ্যাসটা মানুষের থেকে যাবে। করোনার আগে কেউ কেউ দেখেছি মাস্ক পরতে, আমাদের স্কুলেও একজন আছেন যিনি সবসময় মাস্ক পরেন। তার সেই অভ্যাসটার কথা এখন চিন্তা করি এবং ভাবি মাস্ক পরা কতটা জরুরি। করোনার এই উছিলাতে বাংলাদেশের মানুষ অন্তত স্বাস্থ্য সচেতন হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। এই অভ্যাসটা যদি থেকে যায় এটাই হবে আমাদের লাভ।
আরেকটা কথা এই করোনাকালে সবচেয়ে বেশি খুশি প্রকৃতি। কারণ এখন প্রকৃতিকে কেউ বিরক্ত করছে না। টেলিভিশনে দেখলাম ডলফিনরা সাগরের পাড়ে চলে এসেছে। পুকুরের মাছ, পাখি এখন মুক্ত। করোনা ভাইরাস আমাদের কিছু জিনিস উপলব্ধি করিয়েছে, যা আমরা কখনো ভাবিনি।
সেদিন টিভিতে দেখলাম খুলনা কিংবা কোনো অঞ্চলের চরের ছবি, যেখানে লাখ লাখ পাখি আনন্দে নাচছে। কেউ তাদের গুলিও করছে না, বিরক্ত করছে না। এই স্বাধীনতা তারা আগে কখনো কি পেয়েছে? ঠিক তেমনি আমরা প্রকৃতিকে অবহেলা করেছি বলেই আজ আমাদের এই অবস্থা। আমরা নিজেদের প্রয়োজনে খাল, নদী, বন, জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস করেছি। সব কেটে সাবাড় করে বিল্ডিংয়ের ওপর বিল্ডিং বানাচ্ছি। আমরা চারদিক এতো দূষিত করেছি যে স্বাস্থ্যকর সমীরণ বইতে পারছে না। প্রকৃতির ওপর অনাচারের কুফল তো আছেই। যা একসময় ফিরে আসে। বরং বলা ভালো, প্রকৃতির ওপর হামলার কারণেই মানুষ এতো ভোগান্তির শিকার। এখন প্রকৃতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। সব কিছু উজাড় করে ইট-পাথর দিয়ে দালান করলে তো হবে না। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বাঁচাতে হবে প্রকৃতির অপরূপ রূপও।
আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব। যে কোনো দুরবস্থাকে মোকাবিলা করতে একটু সময় লাগে। আমাদেরও লাগবে। যেহেতু এটা বৈশ্বিক বিপর্যয়। কিন্তু আগে তো জীবন। আগে আমরা বাঁচি। তারপর অর্থনীতি। জীবিকার তাগিদে এখন সব খুলে দেয়া হয়েছে। এতে করে মৃত্যুর হার আরো অনেক বেড়েছে। তারচেয়ে বরং বন্ধ থাকলেই ভালো হতো। আমার কথা হচ্ছে আগে মানুষ বাঁচান, তারপর জীবিকা। এমন তো নয় যে আমরা না খেয়ে শুকিয়ে মরব। কম খাব। মানুষের পাশে দাঁড়াব। আমাদের একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে। একা আমি বাঁচলে তো হবে না। অন্যকেও বাঁচাতে হবে।
মনে করুন এখন যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ হলেই যদি মানতে পারি, কারফিউ মানতে পারি, বাইরে যেতে না পারি, অল্প খাবার খেতে পারি, মানুষের কথা ভাবতে পারি। তাহলে এখন পারব না কেন?
আমাদের দেশের মানুষ সচেতন নয়। তারা এখনো লকডাউন মানছে না। নিজেদের ইচ্ছেমতো ঘোরাঘুরি করছে, যত্রতত্র থুতু-কফ ফেলছে। বাজার করছে এমনভাবে যেন একাই বেঁচে থাকবে, ভালো থাকবে। ত্রাণ নিয়ে যা হচ্ছে, তাতে মানুষের অমানবিক দিকটা বড্ড প্রকট হয়ে উঠছে। এসব বোঝানোর জন্যই বোধ হয় বিধাতা পৃথিবীতে এই পরিস্থিতি দিয়েছেন। যদিও আমি মনে করি, এই আঁধার কেটে যাবে।
আমাদের ভাবতে হবে, ডাক্তারদের কথা। যারা আমাদের জীবন বাঁচাচ্ছেন তারাই চলে যাচ্ছেন। অথচ তারাই বড় যোদ্ধা। তারা নিজের জীবন বিপন্ন করে, জীবনবাজি রেখে করোনাক্রান্তদের বাঁচাচ্ছেন। তাদের জন্য আমাদের সহানুভ‚তিটা থাকা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category