বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৪৮
Baking News
রমজানের আগে শারীরিক প্রস্তুতি নিন এখনই: ক্লান্তি ও মাথাব্যথা এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ঢাকার ২০ আসনে বিএনপি ১৩টিতে, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ঐক্য ৭টিতে জয়ী নিরঙ্কুশ বিজয় গণতন্ত্রের বিজয়’ — বিএনপির আনন্দোল্লাস সরকার গঠনের পথে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী শফিকুর রহমান নির্বাচিত হলে জাতিকে বিভক্ত হতে দেবো না আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ছাপানো হচ্ছে ২৬ কোটি ব্যালট পেপার মঞ্চে তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের ঢল ময়মনসিংহে সমাবেশ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ চান না কর্মকর্তারা এ বছর অবসরে যাচ্ছেন ১৬ সচিব, আগামী বছর ২৫ অফিস গুছিয়ে নিচ্ছেন ইসিরা চলে যাবেন ১৪ ফেব্রুয়ারি, নতুন ইসি নিয়ে জল্পনা ৫নং লক্ষিপাশা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী কে এম ফজলুল হক এর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা মিকু বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় নড়াইল জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অভিনন্দন সরকারের সমালোচকরা জনগণের দুঃখ দুর্দশা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকে: ওবায়দুল কাদের লকডাউনে কঠোরতা অব্যাহত বাড়তে পারে আরও সাত দিন শাস্তি জরিমানা সবকিছুর পরও রাস্তায় গাড়ি ও মানুষ বেড়েছে বিস্ফোরণে মুহূর্তেই সব লণ্ডভণ্ড মিলেছে গ্যাসের উপস্থিতি, হাসপাতালে আহাজারি, মর্গে মাতম ১৪টি ভবন ও তিনটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত, তিন তদন্ত কমিটি হৃদরোগে প্রতিবছর মারা যায় ২ লাখ ৭৭ হাজার আজই বসবে ৩৩তম স্প্যান আবহাওয়া ঠিক থাকলে নুর গংদের দ্বারা শুরু হওয়া ধ’র্ষণ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে : ছাত্রলীগ সভাপতি জয় বাংলাদেশে সফরে আসছেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্ষণের শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ চেয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ ছাত্রলীগ নেতার! নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন; প্রধান আসামি গ্রেফতার
Headline :
আবারও বিস্ফোরণে কাঁপল দুবাই, দোহা ও মানামা: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা সৌদি আরবে আবারও ড্রোন হামলা, ইরানের দিকে অভিযোগের আঙুল উত্তর ইসরায়েলের বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি হিজবুল্লাহর বগুড়ায় নির্ধারিত সফর স্থগিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানে ছাত্রীদের স্কুলে হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৮ তেল আবিবে দফায় দফায় বিস্ফোরণ, হামলার আশঙ্কায় সতর্কসংকেত মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলার দাবি ইরানের যতদিন প্রয়োজন, ইরানে বোমা হামলা চলবে: ট্রাম্পের ঘোষণা খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্বে কে? খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত করল ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ৯ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আজ শুরু প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৪৪৭ হিজরিতে ফিতরার হার ঘোষণা: জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০, সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পিলখানা ট্র্যাজেডি: নিহত সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: আজ জাতীয় শহীদ সেনা দিবস অল্প বয়সেই বাড়ছে যে কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণপ্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন দৈনিকসিলেট ডেস্ক স্ট্রোক মানেই কেবল বৃদ্ধ বয়সের রোগ—এই ধারণা এখন অতীত। চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ৫০ বছরের কম বয়সী যুবক-যুবতীদের মধ্যে স্ট্রোকের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মূলত আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়ম এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই এই মরণব্যাধির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার প্রধান কারণগুলো হলো- চিকিৎসকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রায় আসা বেশ কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন এই বিপদের মূল কারণ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও স্থূলতা : অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension) এবং ডায়াবেটিস এখন তরুণদের মধ্যে অতি সাধারণ সমস্যা। তথ্যমতে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের একটি বড় অংশ উচ্চ রক্তচাপের শিকার, যা স্ট্রোকের প্রধান অনুঘটক। ভুল খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অলসতা : ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক এবং কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাব হার্টের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। ধূমপান ও মাদকাসক্তি : ধূমপানের পাশাপাশি অতিরিক্ত মদ্যপান এবং বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবহার রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে রক্ত জমাট বাঁধতে (Blood Clot) সহায়তা করে। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা : পেশাগত বা ব্যক্তিগত জীবনের তীব্র মানসিক চাপ, উদ্বেগ (Anxiety) এবং বিষণ্ণতা পরোক্ষভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।শারীরিক জটিলতা : গর্ভাবস্থাকালীন বা প্রসব-পরবর্তী বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এবং জন্মগত হার্টের ত্রুটিও অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি : বর্তমানে এমআরআই (MRI)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন অনেক ক্ষুদ্র স্ট্রোকও (Silent Stroke) ধরা পড়ছে, যা আগে অজানাই থেকে যেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এই মরণঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে। ১. সুষম আহার : খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। ২. নিয়মিত ব্যায়াম : শরীর সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চা করুন। ৩. মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন : স্ট্রেস কমাতে যোগব্যায়াম বা ধ্যানের (Meditation) সাহায্য নিন। দৈনিক অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। ৪. নেশা বর্জন : ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। এটি রক্তনালীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। ৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা : রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা জানতে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা শরীরের যে কোনো একপাশ অবশ হওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা তীব্র মাথাব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে মুহূর্ত দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত মূল্যবান। সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে না এলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: আইন ও বিচার বিভাগের নতুন অফিস আদেশ কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ, দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক রোজা শেষে স্বস্তি পেতে ইফতারে রাখুন ৫ মৌসুমি ফল
রিপোর্টারের নাম
  • Update Time : জুন, ১৪, ২০২০, ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
  • 269 Time View

করোনাভাইরাসের এই বৈশ্বিক মহামারিতে সারা পৃথিবী থমকে গেছে প্রায়। বানচাল হয়ে গেছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঘুরে বেড়ানোর সব পরিকল্পনা। এই আবদ্ধ ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে ভ্রমণের স্মৃতিচারণ, ছবি দেখা আর গল্পেই মনকে মানিয়ে নেওয়া। করোনা দেশে বিস্তারের ঠিক কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম সেভেন সিস্টার্সের ক্ষুদ্রতম রাজ্য ত্রিপুরায়। গত পর্বে লিখেছিলাম ত্রিপুরার অন্যতম দর্শনীয় স্থান ঊনকোটি নিয়ে। আজ পাঠকের জন্য থাকছে ত্রিপুরা ভ্রমণের দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব ‘মেলাঘর’। আশা করি, এই ঘরবন্দি সময়ে তা কিছুটা হলেও মনের খোরাক মেটাবে।

প্রায় ২০০ কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে ঊনকোটি থেকে আগরতলা ফিরে আসলাম। রাতটা শহরে না কাটিয়ে নতুন কোথায় কাটানো যায় ভাবতেই ভাবতেই মেলাঘরের সাগরমহলের কথা মাথায় আসল। যেহেতু আগামীকাল নীরমহল দেখতে মেলাঘর যাওয়ার পরিকল্পনা, তাই আজই পৌঁছাতে পারলে সব দিক থেকেই বেশ ভালো হয়। তবু দূরত্বের কথা চিন্তা করে একটু দ্বিধায় ছিলাম।

ভিনদেশের অপরিচিত এক এলাকায় রাতবিরাতে গিয়ে না আবার থাকার জায়গা নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়! আগরতলার অধিবাসী মনোজ দাকে ফোন দিতেই তিনি আশ্বস্ত করলেন, কীভাবে যেতে হবে জানালেন। পুরো ট্যুরেই আগরতলার এই ভ্রমণপিপাসু মানুষটির আন্তরিকতার কথা না বললেই নয়। একজন পর্যটকের মন তো এমনই উদার হওয়া উচিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেন থেকে নেমে শহরে আর না ঢুকে সিপাহীজলা মেলাঘরের দিকে রওনা হলাম। অল্প অপেক্ষাতেই বাস পেলাম। আগরতলা থেকে মেলাঘরের দূরত্ব ৫৩ কিলোমিটার, প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রা। জার্নিটা একটু বেশি হলেও রাতে মেলাঘর লেকের পাড়ে বসে চাঁদ দেখার লোভনীয় চিন্তাটা মাথায় ঘুরছিল। পৌঁছাতেই সাড়ে ৭টা বাজল। মেলাঘর বাজারে ঘুরেফিরে একদফা মিষ্টি খেয়ে সাগরমহলের দিকে রওনা হলাম।

মূল সড়ক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে প্রাকৃতিক লেক রুদ্রসাগরের পাশেই সাগরমহলের অবস্থান। অন্ধকার রাস্তা ধরে হাঁটতে কিছুটা ভয়ই লাগছিল। সরু রাস্তা লেকের কাছে এসে শেষ হলো। জলাভূমির অদূরে টিমটিমে আলোতে দেখা যাচ্ছিল আগরতলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান নীরমহল। স্থানীয় একজনকে পেয়ে জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিল সাগরমহলের প্রধান ফটক। আগরতলার সরকারি এই গেস্ট হাউস অবস্থানের কারণে বেশ পরিচিত। এ ছাড়া নানা সময় বাংলাদেশের অনেক নেতা এখানে আত্মগোপনেও ছিলেন বলেও জানা যায়। চারপাশ অন্ধকার দেখেই বুঝতে পারছিলাম আসন্ন বিপদের কথা। গেট ধরে ভেতরে কিছুটা ঢুকে জানতে পারলাম, সাগরমহল গত কয়েক মাস ধরে বন্ধ। এই সংবাদের জন্য ঠিক প্রস্তুত ছিলাম না। যা হোক ভগ্ন হৃদয়ে মেলাঘরে ফিরে এলাম। রাতে থাকার জন্য হোটেলের খোঁজ করতে গিয়ে আরো হতাশ হলাম, যেখন দেখলাম বোর্ডিং টাইপের যে দুটো হোটেল আছে একটাতেও রুম খালি নেই। ভিনদেশের সীমান্তঘেঁষা এই এলাকায় রাতবিরাতে থাকার জায়গার সংকটের কথা চিন্তা করে কিছুটা দুশ্চিন্তাই হচ্ছিল। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সোনামুড়া বর্ডারের দিকে রওনা হলাম। একটা লোকাল ট্রান্সপোর্ট পেলেও ছাড়তে বেশ দেরিই করল। তবু অল্প সময়েই পৌঁছালাম সোনামুড়া। বর্ডারের পাশেই আমাদের কুমিল্লা জেলা। কুমিল্লার বন্ধুদের মুখে বহুবার এই বর্ডারের নাম শুনেছি, তবু কখনো ভাবিনি এখানে এসেই রাত কাটানোর সুযোগ হবে। এখানকার লোকজন অনেকটা কুমিল্লার টোনে কথা বলে। আগরতলার অনেক জায়গাতেই কুমিল্লা এবং সিলেটের ভাষার টানই কানে আসে বেশি। আসলে ভাষাকে তো আর কাঁটাতার দিয়ে আটকে দেওয়া যায় না। সোনামুড়ার প্রায় সবারই আত্মীয়-স্বজন আছে ওপারে। এদিকে বেশ কিছু মসজিদ-মাদ্রাসা চোখে পড়েছে, যেটা অন্যদিকে চোখে পড়েনি। আবার মন্দিরও আছে অনেক। যতই মিল থাকুক ওপারের সঙ্গে তবু মানচিত্র এখন আলাদা, তাই বাস্তবতাও আলাদা। রাত বাড়ছে বেশ। হোটেল খুঁজে বেশ গলদঘর্ম হয়ে অবশেষে তুলনামূলক একটু খরুচে হলেও ভালো একটা থাকার ব্যবস্থা হলো হোটেল সরোজিনীতে।

বেশ সকালেই উঠলাম সময়টাকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে। আশপাশ ঘুরে দেখলাম। দেখা হলো আমাদের কুমিল্লার দুঃখ গোমতীর এ পাড়ের অংশ। এখনো বেশ প্রাণবন্ত, সতেজ। এই নদীর ওপর একটা ঝুলন্ত ব্রিজও আছে। এমন নদী দেখলে আসলে দেশের নদীগুলোর দুরবস্থার কথা চিন্তা করে কষ্টই বাড়ে কেবল।

হোটেল থেকে নাশতা সেরে অটো নিয়ে রওনা হলাম নীরমহলের উদ্দেশে। অল্প সময়েই পৌঁছালাম রাজঘাট। এখান থেকেই নীরমহলের নৌকা ছেড়ে যায়। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল পানির ওপর ভেসে থাকা নীরমহল। নীরমহল মূলত স্বাধীন ত্রিপুরার শেষ রাজা বীর বিক্রম মাণিক্য বাহাদুরের গ্রীষ্মকালীন প্রমোদভবন। হিন্দু-মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণে নির্মিত প্রাসাদটির কাজ শেষ হয় ১৯৩৮ সালে। জলের মধ্যে এমন মহল ত্রিপুরা ছাড়া সমগ্র ভারতে কেবল রাজস্থানেই দেখা যায়।

শিডিউল ইঞ্জিন নৌকার অপেক্ষা না করে ৩৫০ টাকায় রিজার্ভ নৌকা ঠিক করে রওনা হলাম। লেকে পানকৌড়ি ছাড়াও বেশ কিছু পাখির দেখা মিলল। যতই কাছাকাছি যাচ্ছিলাম ততই মুগ্ধ হচ্ছিলাম অসাধারণ এই শুভ্র প্রাসাদ দেখে। দাঁড় টানা নৌকায় আধা ঘণ্টা লাগল পৌঁছাতে। দিনের প্রথম পর্যটক হিসেবে টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকলাম। এখানে ক্যামেরার জন্য টিকেটের চাইতেও বেশি চার্জ দিতে হয়।

প্রাসাদটি মূলত অন্দরমহল ও বাহিরমহল দুই ভাগে বিভক্ত। তখনকার সময়ে অন্দরমহল ছিল রাজপরিবারের লোকজনদের জন্য এবং বাহিরমহলে দরবার হল, নাচঘর, খোলা মঞ্চ, সৈন্যদের পাহারা দেওয়ার গম্বুজ, তাদের থাকার জায়গাসহ নানা আয়োজন ছিল। সবমিলিয়ে এখানে মোট কক্ষ আছে ২৪টি। ঘুরে দেখলাম প্রাসাদের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত। নিয়মানুযায়ী ৪০ মিনিটে দেখা শেষ করতে হবে, নয়তো বোটম্যানকে তার জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে। ভাড়াসহ সব রুলস টানিয়েই রাখা আছে নৌকাঘাটে।

যা হোক, বোটম্যানের সঙ্গে গল্প করতে করতেই ফিরতি পথে রওনা হলাম। মেলাঘর পৌঁছে আর দেরি না করে বাসে উঠলাম। গন্তব্য আগরতলা শহর। এ যাত্রায় এখানেই সমাপ্তি। আবার না হয় দেখা হবে অন্য কোথাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category