শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:০০
Baking News
রমজানের আগে শারীরিক প্রস্তুতি নিন এখনই: ক্লান্তি ও মাথাব্যথা এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ঢাকার ২০ আসনে বিএনপি ১৩টিতে, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ঐক্য ৭টিতে জয়ী নিরঙ্কুশ বিজয় গণতন্ত্রের বিজয়’ — বিএনপির আনন্দোল্লাস সরকার গঠনের পথে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী শফিকুর রহমান নির্বাচিত হলে জাতিকে বিভক্ত হতে দেবো না আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ছাপানো হচ্ছে ২৬ কোটি ব্যালট পেপার মঞ্চে তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের ঢল ময়মনসিংহে সমাবেশ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ চান না কর্মকর্তারা এ বছর অবসরে যাচ্ছেন ১৬ সচিব, আগামী বছর ২৫ অফিস গুছিয়ে নিচ্ছেন ইসিরা চলে যাবেন ১৪ ফেব্রুয়ারি, নতুন ইসি নিয়ে জল্পনা ৫নং লক্ষিপাশা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী কে এম ফজলুল হক এর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা মিকু বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় নড়াইল জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অভিনন্দন সরকারের সমালোচকরা জনগণের দুঃখ দুর্দশা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকে: ওবায়দুল কাদের লকডাউনে কঠোরতা অব্যাহত বাড়তে পারে আরও সাত দিন শাস্তি জরিমানা সবকিছুর পরও রাস্তায় গাড়ি ও মানুষ বেড়েছে বিস্ফোরণে মুহূর্তেই সব লণ্ডভণ্ড মিলেছে গ্যাসের উপস্থিতি, হাসপাতালে আহাজারি, মর্গে মাতম ১৪টি ভবন ও তিনটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত, তিন তদন্ত কমিটি হৃদরোগে প্রতিবছর মারা যায় ২ লাখ ৭৭ হাজার আজই বসবে ৩৩তম স্প্যান আবহাওয়া ঠিক থাকলে নুর গংদের দ্বারা শুরু হওয়া ধ’র্ষণ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে : ছাত্রলীগ সভাপতি জয় বাংলাদেশে সফরে আসছেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্ষণের শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ চেয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ ছাত্রলীগ নেতার! নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন; প্রধান আসামি গ্রেফতার
Headline :
আবারও বিস্ফোরণে কাঁপল দুবাই, দোহা ও মানামা: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা সৌদি আরবে আবারও ড্রোন হামলা, ইরানের দিকে অভিযোগের আঙুল উত্তর ইসরায়েলের বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি হিজবুল্লাহর বগুড়ায় নির্ধারিত সফর স্থগিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানে ছাত্রীদের স্কুলে হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৮ তেল আবিবে দফায় দফায় বিস্ফোরণ, হামলার আশঙ্কায় সতর্কসংকেত মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলার দাবি ইরানের যতদিন প্রয়োজন, ইরানে বোমা হামলা চলবে: ট্রাম্পের ঘোষণা খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্বে কে? খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত করল ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ৯ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আজ শুরু প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৪৪৭ হিজরিতে ফিতরার হার ঘোষণা: জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০, সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পিলখানা ট্র্যাজেডি: নিহত সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: আজ জাতীয় শহীদ সেনা দিবস অল্প বয়সেই বাড়ছে যে কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণপ্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন দৈনিকসিলেট ডেস্ক স্ট্রোক মানেই কেবল বৃদ্ধ বয়সের রোগ—এই ধারণা এখন অতীত। চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ৫০ বছরের কম বয়সী যুবক-যুবতীদের মধ্যে স্ট্রোকের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মূলত আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়ম এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই এই মরণব্যাধির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার প্রধান কারণগুলো হলো- চিকিৎসকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রায় আসা বেশ কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন এই বিপদের মূল কারণ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও স্থূলতা : অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension) এবং ডায়াবেটিস এখন তরুণদের মধ্যে অতি সাধারণ সমস্যা। তথ্যমতে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের একটি বড় অংশ উচ্চ রক্তচাপের শিকার, যা স্ট্রোকের প্রধান অনুঘটক। ভুল খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অলসতা : ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক এবং কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাব হার্টের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। ধূমপান ও মাদকাসক্তি : ধূমপানের পাশাপাশি অতিরিক্ত মদ্যপান এবং বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবহার রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে রক্ত জমাট বাঁধতে (Blood Clot) সহায়তা করে। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা : পেশাগত বা ব্যক্তিগত জীবনের তীব্র মানসিক চাপ, উদ্বেগ (Anxiety) এবং বিষণ্ণতা পরোক্ষভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।শারীরিক জটিলতা : গর্ভাবস্থাকালীন বা প্রসব-পরবর্তী বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এবং জন্মগত হার্টের ত্রুটিও অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি : বর্তমানে এমআরআই (MRI)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন অনেক ক্ষুদ্র স্ট্রোকও (Silent Stroke) ধরা পড়ছে, যা আগে অজানাই থেকে যেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এই মরণঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে। ১. সুষম আহার : খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। ২. নিয়মিত ব্যায়াম : শরীর সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চা করুন। ৩. মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন : স্ট্রেস কমাতে যোগব্যায়াম বা ধ্যানের (Meditation) সাহায্য নিন। দৈনিক অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। ৪. নেশা বর্জন : ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। এটি রক্তনালীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। ৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা : রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা জানতে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা শরীরের যে কোনো একপাশ অবশ হওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা তীব্র মাথাব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে মুহূর্ত দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত মূল্যবান। সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে না এলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: আইন ও বিচার বিভাগের নতুন অফিস আদেশ কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ, দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক রোজা শেষে স্বস্তি পেতে ইফতারে রাখুন ৫ মৌসুমি ফল
রিপোর্টারের নাম
  • Update Time : জুন, ১৯, ২০২০, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
  • 469 Time View

মাত্র ৪০ থেকে ৫০ বছরের ব্যাবধানে অনুন্নত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ থেকে একটি পরিপূর্ণ উন্নত দেশে পরিণত হয়ে সিঙ্গাপুর একটি চমক সৃষ্টি করেছে। ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্ত সিঙ্গাপুর ছিল অগোছালো, নিয়ন্ত্রনহীন এবং সংঘাতে পরিপূর্ণ একটি দেশ। কিন্তু তাঁরা সেখানে থেমে থাকেনি। যুগোপযোগী পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে তাঁরা আজ নিজেদের দেশকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তা এখন বিভিন্নও দেশের পর্যটকদের কাছে এক দারুণ আকর্ষণের নাম। আমাদের আজকের ব্লগে আমরা সিঙ্গাপুর ভ্রমণের বিভিন্নও দিক নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি তাদের এই যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়েও কিছু কথা বলব।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং ধুঁকতে থাকা সিঙ্গাপুর

মূলত ১৯৬৩ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে সিঙ্গাপুর স্বাধীনতা লাভ করে, কিন্তু তখনও তাঁরা মালয়েশিয়ার অন্তর্ভুক্তই ছিল। মতের মিল না হওয়ায় ১৯৬৫ সালে তারা মালয়েশিয়া থেকে আলাদা হয় এবং নিজেদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশ প্রতিষ্ঠা করে। সেসময় সিঙ্গাপুরকে নিয়ে বলার মত কিছুই ছিল না। সিঙ্গাপুরের পরিচয় ছিল একটি মাছ ধরা কেন্দ্র হিসেবে। তখনকার বেশিরভাগ মানুষ ছিল অশিক্ষিত এবং মাছ ধরাই ছিল তাদের জিবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায়। ৭১৬ বর্গ কিলোমিটারের দেশটি ছিল এক কথায় অপরাধ ও দারিদ্রতায় জর্জরিত একটি মৎস্য ব্যাবসা কেন্দ্র।

সিঙ্গাপুর অতীত বনাম বর্তমান
সিঙ্গাপুরের অতীত এবং বর্তমানের একটি তুলনামূলক চিত্র

ক্ষুদ্র এই নগর রাষ্ট্রের উল্লেখ করার মত কিছুই ছিল না। প্রাকৃতিক সম্পদই দেশের উন্নয়নের একমাত্র চাবি কাঠি, এই কথায় যারা বিশ্বাস করেন তাদের জন্য বলছি, সিঙ্গাপুরে কোন প্রাকৃতিক সম্পদ ছিলনা বললেই চলে। মালয় এবং চীনাদের ভিতরের কোন্দলের কারণে আইন শৃঙ্খলার অবস্থাও ছিল বেশ খারাপ। এক কথায় তখনকার সিঙ্গাপুর আর এখনকার সিঙ্গাপুরের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ ছিল। তখন কেউ চিন্তাও করেনি যে এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে সিঙ্গাপুর কখনও উন্নত দেশের তালিকায় নাম লেখাতে পারবে।

সিঙ্গাপুরের ঘুরে দাঁড়ানো

এই বিপর্যয় সামলিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব যার কাধে পরে তিনি হলেন সিঙ্গাপুরের প্রথম প্রধানমন্ত্রি লি কুয়ান। তাঁকে বলা হয় আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক। ১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে দেশকে পৃথক করতে লি কুয়ান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এর পর শক্ত হাতে দেশের হাল ধরেন। তাঁর আপ্রান চেষ্টায় এবং বুদ্ধিমত্তায় ধীরে ধীরে সিঙ্গাপুর আলোর পথে হাটা শুরু করে। তিনি প্রথমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনেন। এর পর তিনি দেশের একমাত্র সম্পদ জনসংখ্যাকে কাজে লাগানোর বিস্তর পরিকল্পনা গ্রহন করেন। তিনি মানুষের সততাকে সব চাইতে বেশী মুল্যায়ন করতেন, এমনি মেধার চাইতেও বেশী। তাঁর কাছে মনে হয়েছে, মানুষের সকল শিক্ষা ও মেধার কোন মুল্যই নাই যদি না সে সৎ হয়।

ফলস্বরূপ কয়েক বছরের মধ্যে বেকারত্বের হার কমে মাত্র ৩ শতাংশে চলে আসে, প্রবৃদ্ধি বেড়ে যায় প্রায় ৮ শতাংশ। কু ওয়ানের দূরদর্শিতায়  ৮০’র দশেকই সিঙ্গাপুর কম্পিউটার যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু করে। দেশে পর্যটকদের আগমনকে উৎসাহিত করার জন্যে ১৯৮১ সালে সিঙ্গাপুর চাঙ্গি এয়ারপোর্ট উম্মুক্ত করা হয় এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

সিঙ্গাপুরের পরিবেশ ও ভ্রমণ

সমস্ত দুর্দশাকে পিছনে ফেলে সিঙ্গাপুর আজ পৃথিবীর ২২ তম ধনি দেশ। সিঙ্গাপুরের জীবন যাত্রার মান উন্নতির দিক থেকে এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ। এখানকার ৮৩ শতাংশ মানুষই উন্নত হাউজিং এস্টেটে বসবাস করে। এসব পরিসংখ্যানই বলে দেয় যে সিঙ্গাপুর আজ ইউরোপের কোন উন্নত রাষ্ট্রের চাইতে কোন অংশে কম না।

উন্নত সিঙ্গাপুরের যে কয়েকটি বিষয় আপনাকে বেশী মুগ্ধ করবে তার মধ্যে একটি হল রাস্তা ঘাটে নারীদের অবাধ এবং নিরাপদ চলাচল। অত্যন্ত কার্যকর আইন আছে এই বিষয়ে। কোন পুরুষ যদি কোন নারির দিকে অশোভন দৃষ্টিও দেয়, তাহলে সেই নারী তখনি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবে। তৎক্ষণাৎ এমন ভাবে ব্যাবস্থা নেয়া হবে যে ওই পুরুষ আর ওই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করার সাহস করবে না। এসব ব্যাপার দেখার জন্যও নগরীর রাস্তা ঘাটে ছড়িয়ে থাকে অসংখ্য সাদা পোশাকের পুলিশ।

আরেকটি চমৎকার ব্যাপার হল এখানকার পরিচ্ছন্নতা। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি তা করে তাহলে তাকে শাস্তি  হিসেবে ১ দিন ওই এলাকার ঝাড়ুদারের দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সেমিনারে অংশ নিতে হয়!

পুরোপুরিভাবে দুর্নীতিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন এবং উন্নত একটি দেশ ভ্রমণ করতে কার না ইচ্ছা করে! ইউরোপ ভ্রমণের স্বাদ পেতে ইচ্ছা হলে কম খরচে সিঙ্গাপুর একটা চমৎকার গন্তব্য হতে পারে। এজন্যে বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর বিভিন্নও দেশের পর্যটকদের কাছে সিঙ্গাপুর একটি জনপ্রিয় নাম। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক সিঙ্গাপুর ভ্রমণ সম্পর্কে কিছু তথ্য।

কখন বেড়াতে যাবেন সিঙ্গাপুর

দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতে অবস্থানের কারণে সিঙ্গাপুরে তাপমাত্রা এবং আদ্রতা দুইই বেশী থাকে প্রায় সারা বছরই। একারণে বছরের যেকোনো সময়েই আপনি সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করতে পারেন।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সবচাইতে বেশী পর্যটক সমাগম ঘটে সিঙ্গাপুর এ। এই সময় গেলে আপনি অনেক উৎসব এবং ইভেন্টে যোগ দিতে পারবেন। এর মধ্যে  বিখ্যাত সিঙ্গাপুর সেল ফেস্টিভাল ( বিক্রয় উৎসব) আর ফুড ফেস্টিভাল অন্যতম। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এই সময়ে ভিড় কম থাকে এবং আবহাওয়া বেশ নাতিশীতোষ্ণ থাকে। সিঙ্গাপুরে বর্ষাকাল থাকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। যদি বৃষ্টি এড়াতে চান তাহলে এই সময়ে সিঙ্গাপুর ভ্রমণ না করাই ভাল হবে।

 

কিভাবে যাবেন সিঙ্গাপুর

ঢাকায় সিঙ্গাপুরের কনস্যুলেট আছে ঠিকই, কিন্তু সেখান থেকে সিঙ্গাপুরের ভিসা দেয়া হয় না। ভিসার জন্যে বেশ কিছু অনুমোদিত এজেন্ট আছে, সেখান থেকে ভিসা করে নিতে পারেন। ভিসা পেতে হলে আপনাকে অবশই সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত কারও কাছ থেকে আমন্ত্রন পেতে হবে। ভিসা ফি ৩০ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার।

সিঙ্গাপুর ভিসা সম্পর্কে জানতে চাইলে ভিজিট করু

 

বিমান টিকিট সংক্রান্ত তথ্য

ঢাকা থেকে বিমানে সিঙ্গাপুর যেতে পারেন। সরাসরি অথবা ওয়ান স্টপ ফ্লাইট পাবেন। জেট এয়ার ওয়েজ, মালিন্দ এয়ার, বিমান বাংলাদেশ, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স ইত্যাদি বিভিন্নও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার বিমানে সিঙ্গাপুর যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে খরচ পরবে ১৭,৬৪০ টাকা থেকে ২১,২২২ টাকা। দেশীয় বিমান সংস্থার মধ্যে রিজেণ্ট এয়ারলাইন্স, ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্স, ও বাংলাদেশ বিমানে যেতে পারবেন। খরচ পরবে ১৬,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। ভাল হবে যদি যাত্রার মাস খানেক আগে অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখেন। সেক্ষেত্রে খরচ কিছুটা হলেও কমবে। তবে বিমান টিকিট করার জন্য বিমান সংস্থার অফিস কিংবা ট্রাভেল এজেন্সিতে দৌড়ানোর প্রয়োজন হবে না। ঘরে বসে খুব সহজেই যেকোন গন্তব্যের টিকিট কাটতে পারেন এই ওয়েবসাইট থেকেঃ দেখবেন সিঙ্গাপুরে

সিঙ্গাপুর আয়তনে বেশ ছোট একটি দেশ। মাত্র ৭১৬ বর্গ কিলোমিটারের ছোট নগর রাষ্ট্র হবার কারণে পর্যটকরা একটা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। সেটি হল, খুব দূরে কোথাও না গিয়েও অনেক কিছু দেখে ফেলা সম্ভব। তবে তাঁর মানে এই না যে সিঙ্গাপুরে দর্শনীয় স্থানের সংখ্যা কম! ট্রাফিক জ্যাম মুক্ত ঝকঝকে নগর রাষ্ট্রটিতে উপভোগ করার মত অনেক উপকরণই রয়েছে।  আপনাদের সুবিধার জন্য এরকম কিছু স্থান নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

দেখে নিতে পারেন সিঙ্গাপুরের চমৎকার সব স্থান গুলো নিয়ে এই ভিডিওটি

 

সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা

দেশের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা। সাধারণ চিড়িয়াখানা থেকে এর পার্থক্য হল, এখানে বন্য প্রাণীরা খাঁচায় আবদ্ধ থাকেনা। তাদের জন্য বিশেষ ভাবে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাঁরা সেখানে মুক্তভাবে বিচরন করে। একটি বন্য প্রাণীকে তাঁর উপযুক্ত পরিবেশে নিজের মত চড়ে বেড়াতে দেখার চাইতে চমৎকার আর কি হতে পারে। আপনার যদি বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফির শখ থাকে তাহলে তা ইচ্ছা মত মিটিয়ে নিতে পারবেন এখান থেকে। প্রতিবছর প্রায় ১.৬ মিলিয়ন দর্শনার্থী এই চিড়িয়াখানা দেখতে আসেন।

সময়সীমাঃ সকাল ৮.৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬ টা

প্রবেশ মুল্যঃ প্রাপ্ত বয়স্ক – ২০ ইউ এস ডলার, শিশু ৩ ডলার।

ঠিকানাঃ ৮০ মান্দাই লেক রোড, সিঙ্গাপুর ৭২৯৮২৬

সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা। সুত্রঃ প্ল্যানেট রোভারস

 

মারলায়ন পার্ক

সিঙ্গাপুর যাবেন আর মেরিলিয়ন পার্ক দেখবেন না, এ হতেই পারে না। এই স্থাপনাটিকে সিঙ্গাপুরের গর্ব এবং প্রতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মেরিলিয়ন এর মূর্তিটি ২৮ ফুট লম্বা। এর মাথা সিংহের এবং দেহ মাছের। এই মূর্তিটি দ্বারা সিঙ্গাপুরবাসি এটাই প্রমান করতে চায় যে মাছ ব্যাবসায়ি হিসেবে তাদের দেশের যে অতীত ইতিহাস, সেটা তাঁরা ভুলে যায়নি। এখান থেকে সমগ্র মেরিনা বে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সব মিলিয়ে জায়গাটার পরিবেশ অনেক চমৎকার।

সিঙ্গাপুর
মারলায়ন পার্ক। সুত্রঃ ট্রাভেল ব্লগার

 

সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার

সিঙ্গাপুরের অনন্য আকর্ষণগুলোর মধ্যে ফ্লাইয়ার অন্যতম। একে নির্দ্বিধায় পৃথিবীর বৃহত্তম নাগরদোলা বলা চলে। ২৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নিরমিত ১৬৫ মিটার উচ্চতার এই নাগরদোলাটি ২০০৮ সালে জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। রাতের বেলা এই নাগরদোলায় চড়ে চমৎকার আলোকোজ্জ্বল সিঙ্গাপুরের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য দেখার চাইতে রোম্যান্টিক আর কি হতে পারে! বিশেষ ব্যাবস্থায় আপনি ইচ্ছা করলে এই নাগরদোলায় থাকাকালীন অবস্থায় আপনার ডিনারটাও সেরে নিতে পারেন। এক কোথায় অপূর্ব কিছু অনুভুতি পাবেন এখানে।

সময়সীমাঃ সকাল ৮.৩০ থেকে রাত ১০.৩০

টিকিটঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ৩৩ ইউ এস ডলার, শিশু ২১ ইউ এস ডলার

ফ্যামেলি প্যাকেজঃ ৭৮ ইউ এস ডলার।

ঠিকানাঃ ৩০ র‍্যাফেলস এভিনিউ।

সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার
সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার। সুত্রঃ স্ট্রেইট টাইমস

 

সিঙ্গাপুর ইতিহাস যাদুঘর বা হিস্টোরি মিউজিয়াম

সিঙ্গাপুরের আরেকটি চমৎকার দেখার মত জায়গা হল এর ইতিহাস যাদুঘর। সিঙ্গাপুরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হলে এই যাদুঘর দেখার বিকল্প নেই। চমৎকার মার্বেল পাথরে বাঁধানো সাদা রঙের একটি প্রাসাদের ভিতর এই জাদুঘরটি অবস্থিত। এখানে শুধু সিঙ্গাপুর না, বরং এশিয়ার বিভিন্নও দেশের ও সময়ের ঐতিহাসিক উপাদান যত্নসহকারে সংরক্ষিত আছে।  বাচ্চাদের জন্য তাদের উপযোগী করে তৈরি করা আলাদা সেকশনও আছে।

সময়সীমাঃ সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা

টিকিটঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ ইউ এস ডলার, শিশু, ছাত্র ছাত্রী ও বৃদ্ধ – ৫ ইউ এস ডলার

ঠিকানাঃ ৩০ মার্চেন্ট রোড, রিভার সাইড পয়েন্ট।

সিঙ্গাপুর মিউজিয়াম
সিঙ্গাপুর হিস্টোরি মিউজিয়াম। সুত্রঃ টাইম আউট

 

চায়না টাউন

বিচিত্র কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়না টাউন ঘুরে আসতে পারেন। অন্যান্য দেশের চায়না টাউনের মত এখানকার চাইনিজরাও অনেক আমুদ প্রিয়। ছোট ছোট অনেক দোকান পাবেন বিভিন্নও ধরনের মাল্ পত্রে ঠাসা। এখানে ঘুরতে ঘুরতে চাইনিজ হেরিটেজ সেন্টার টা দেখে ফেলতে পারেন। দেখতে পারেন চমৎকার শ্রী মারিয়াম্মান মন্দির।

 

বুদ্ধের দন্ত সংরক্ষিত যাদুঘর বা টুথ রেলিক মিউজিয়াম

সিঙ্গাপুরে অবস্থিত চায়না টাউনের কেন্দ্রস্থলে এই বিখ্যাত মন্দির ও যাদুঘরটি অবস্থিত। এই মন্দিরের চতুর্থ তলার অভ্যান্তরে ৩২০ কিলোগ্রাম সোনার স্তুপের উপর মহামতি বুদ্ধের একটি দাঁত সংরক্ষিত আছে। এটি দর্শনার্থীদের দেখার জন্যও উম্মুক্ত। প্রতি বছর হাজার হাজার বৌদ্ধ এখানে আসে। বৌদ্ধ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও আসেন নির্দ্বিধায়। নিচতলায় দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে শাকাহার করানো হয়।

সময়সীমাঃ সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা

প্রবেশমুল্যঃ বিনামূল্যে।

সিঙ্গাপুর টুথ রেলিক মিউজিয়াম
টুথ রেলিক মিউজিয়াম। সুত্রঃ উইকিপিডিয়া

 

গার্ডেনস বাই দ্য বে

মেরিনা রিজারভেয়ারের একদম পাশেই ২৫০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে গার্ডেনস বাই দ্য বে নামের বিশাল এই পার্ক। তিনটি বৃহৎ ওয়াটার ফ্রন্ট বাগান নিয়ে এই বিশাল পার্ক গড়ে উঠেছে। এখানে হাজার প্রজাতির বিভিন্ন গাছ পালা ও লতা গুল্মের সমাহার আপনাকে মুগ্ধ করবে। শহুরে পরিবেশে যদি ক্লান্ত অনুভব করেন, তাহলে এখানকার শান্ত সবুজ পরিবেশে এসে দেহ মনকে সতেজ করে নিতে পারেন।

সময়সীমা সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা

প্রবেশ মুল্যঃ ২৮ ইউ এস ডলার

ঠিকানাঃ ১৮, মেরিনা গার্ডেনস ড্রাইভ।

সিঙ্গাপুর গার্ডেনস বাই দ্য বে
গার্ডেনস বাই দ্য বে। সুত্রঃ লোকো ট্রাভেলস

 

র‍্যাফেলস হোটেল

এই হোটেলটি সিঙ্গাপুরের সবচাইতে পুরাতন ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম। হোটেলটি স্থাপিত হয় ১৮৮৭ সালে। অনেক বিখ্যাত ব্যাক্তি এই হোটেলে থেকেছেন বিভিন্নও সময়ে। এর মধ্যে আছেন রুডইয়ার্ড কিপ্লিং, জোসেফ কনরাড, চারলি চ্যাপলিন এবং আরও অনেকে। এই হোটেলের সাথে সিঙ্গাপুরের অনেক ঐতিহ্য জড়িত। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এই হোটেল আজ সিঙ্গাপুরের সংস্কৃতির একটা অংশই হয়ে গেছে বলা যায়। এত দিন পরেও এই হোটেলটি এখনও চমৎকার সেবা দিয়ে যাচ্ছে। খাবার দাবারও অনেক মানসম্মত। তাই এখানে এলে এক ঢিলে অনেক পাখিই মারতে পারবেন।

সিঙ্গাপুর র‍্যাফেলস হোটেল
র‍্যাফেলস হোটেল। সুত্রঃ ফ্যামস ওয়ান্ডারস

 

সেন্তোসা আইল্যান্ড

সিঙ্গাপুর সৈকতের জন্যও খুব একটা বিখ্যাত না। কিন্তু এর পরও যদি আপনার সৈকতে সময় কাটাতে ইচ্ছা করে সেক্ষেত্রে সেন্তোসা আইল্যান্ড একটা চমৎকার গন্তব্যও হবে। জল এবং স্থল উভয় পথেই এই ছোট দ্বিপে যেতে পারবেন। এখানকার সিলোসো সৈকত বেশ চমৎকার। এখানেই পাবেন বিখ্যাত মেরিলন এর মূর্তি। আরও দেখবেন সিলোসো দুর্গ এবং ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিঙ্গাপুর।

সিঙ্গাপুর সেন্তোসা আইল্যান্ড
সেন্তোসা আইল্যান্ড। 

কোথায় থাকবেন সিঙ্গাপুর গেলে

সিঙ্গাপুর ভ্রমনে গেলে অবশ্যই কয়েকদিন থাকতে হবে আপনাকে। যদি আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু বান্ধব না থাকে, সে ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই হোটেলের খোজ খবর আগে থেকেই নিয়ে রাখতে হবে। সব থেকে ভাল হয় যদি অগ্রিম বুকিং দিয়ে যেতে পারেন, সেক্ষেত্রে খরচও কিছুটা কমবে। আপনার সুবিধার জন্যে এরকম ভাল কিছু হোটেলের নাম ও ফোন নম্বর আমরা দিয়ে দিচ্ছি। এছাড়া আরও খোজ নিতে চাইলে নিচের ওয়েব সাইটটি ব্যাবহার করতে পারেন। এখানে আপনার ভ্রমণের তারিখের যত গুলো হোটেল ফাকা থাকবে তার সব গুলোর লিস্ট পেয়ে যাবেন ট্রিপ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category