আমদানি-রপ্তানি স্থবির, শ্রমিকরা বন্দর ভবনেই বৈঠকের দাবিতে অনড়; উপদেষ্টা অবরুদ্ধ, স্লোগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
খবরের বিস্তারিত: নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের এক দফা দাবিতে টানা কর্মবিরতিতে প্রায় পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মসূচিতে রূপ নেওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
অচলাবস্থা নিরসনে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা। ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বন্দর ভবনে এই আলোচনা হয়।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, “আলোচনা ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। তাই পতেঙ্গার বোট ক্লাবে নয়, বন্দর ভবনেই বৈঠক করতে হবে—এ দাবিতে আমরা অনড় ছিলাম।” পরে বিকেল ৩টায় বন্দর ভবনে বৈঠকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের একমাত্র দাবি—এনসিটি লিজ চুক্তি বাতিল করতে হবে। দাবি মেনে নিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হবে। সকালে উপদেষ্টার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় চুক্তির অর্থনৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে উপদেষ্টা পুরোপুরি অবগত নন বলে মনে হয়েছে। বিষয়গুলো তুলে ধরে এটিকে দেশবিরোধী চুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হবে।
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু ওই বৈঠকে আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের রাখা হয়নি। পরে উপদেষ্টা পতেঙ্গার বোট ক্লাবে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করেন তারা।
বৈঠকে যোগ দিতে বন্দর ভবনে প্রবেশের সময় উপদেষ্টা প্রায় ১৫ মিনিট শ্রমিক-কর্মচারীদের বাধার মুখে অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে তার গাড়িবহর ভেতরে প্রবেশ করায়। এ সময় শতাধিক শ্রমিক স্লোগান দিতে দিতে ভেতরে ঢুকে পড়েন। শ্রমিকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন—
বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, বন্দরের অপারেশন চালু রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকরা আন্দোলন স্থগিত না করলে কার্যক্রম স্বাভাবিক করা কঠিন হবে।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, চুক্তি বাতিলের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এদিকে ঢাকা চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠন দ্রুত বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে।
Leave a Reply