রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীদের অভিযোগ — ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যালট ছিনতাই ও জালভোট; জেলা প্রশাসকের ওপর চড়াও, কান্নাকাটি ও অভিশাপ; রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন, কমিশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত
খবরের বিস্তারিত: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া), রংপুর-৩ (সদর ও রসিক) এবং রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পরাজিত বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আখতার হোসেনকে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।
অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ:
কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রধান অভিযোগসমূহ:
প্রার্থীদের বক্তব্য:
ডিসি অফিসে ঘটনা: বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসকের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে রংপুর-৪ আসনের পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা কাঁদতে কাঁদতে জেলা প্রশাসককে অভিশাপ দেন। তিনি বলেন: “আমার অভিশাপ থাকলো। আল্লাহ আপনার বিচার করবে। আমার বউ-বাচ্চাকে কাঁদিয়ে, আমাকে কাঁদিয়ে আমার ভোট ছিনতাই করেছেন। আপনার ছেলে-মেয়েও রাস্তায় কান্না করবে।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন: “রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনের বিএনপি প্রার্থীদের ভোট পুনর্গণনার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য প্রেরণ করেছি।”
পরিস্থিতি: গত দুদিন ধরে রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলছে। অন্যদিকে বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, হারাগাছ, পীরগাছা ও কাউনিয়ায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
এই বিক্ষোভ ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ রংপুরে নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনার চিত্র স্পষ্ট করেছে।
Leave a Reply