লেখকঃ ডক্টর এম,এমদাদুল হক, আইনজীবী,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট,চেম্বার:শহীদ সোহরাওর্য়াদ্দী ভবন,রুম নাং ১০০৮,দশ তলা, সুপ্রিম কোর্ট,ঢাকা,কন্টাক্ট নং ০১৭২৫-৬৪৭২৬১,০১৯১২-৮৮০১৭৩
জমি অধিগ্রহন প্রতিটা সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকার জনসাধারণের জমি অধিগ্রহনের মাধ্যমে জনসাধারনের জন্যেই জনহীতৈকার কর্ম সম্পাদন করে থাকে। সরকারী অফিস-আদালত,রাস্তা- ঘাট, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তারমধ্যে অন্যতম কর্ম বলে আমরা জেনে থাকি।রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সরকার জমি অধিগ্রহন করে থাকলে সেখানে জনগনের কিছুই করার থাকেনা। জমির মালিকের অপূরনীয় ক্ষতি হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত বদল করা দূরহ ব্যাপার। জমি অধিগ্রহন রোধ করা না গেলেও জমির মালিক তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরন পাওয়ার আইনত হকদার।যদি কোন মালিক জমির ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন তাহলে তিনি উপযুক্ত ক্ষতিপূরনের জন্য জেলা আরবিট্রেশন আদালতের স্মরনাপন্ন হতে পারেন।একজন যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারক জেলা আরবিট্রেশন আদালতের বিচারক থাকেন।আরবিট্রেশন শব্দের অর্থ হলো সালিশ বা মিমাংসা,তাই অনেকের কাছে এটা সালিশি কোর্ট নামেও পরিচিত। জমির মালিক রাষ্ট্র দ্বারা অধিকৃত সম্পত্তির ন্যায্য পাওনার আইনত হকদার যা সরকার বা রাষ্ট্র তাকে দিতে আইনত বাধ্য,তবে উক্ত জমির মূল্যমান নির্ধারন করা খুবই জরুরী একটি কাজ।সাধারনত দেখা যায় অধিগ্রহনকৃত এলাকায় বিগত একবছর যাবৎ বিক্রয়কৃত জমির দলিলে উল্লেখিত মূল্যমান হতে এইরুপ মূল্য নির্ধারিত হয়ে থাকে।তবে আমরা এটাও জানি সরকারের রাজস্ব বা রেজিস্ট্রি ফি ফাকি দেয়ার জন্য জনগন প্রায়সই দলিলের মূল্যমান প্রকৃত দাম থেকে অনেক কম উল্লেখ করে থাকেন।এজন্যই জমির দলিলে যে মূল্যমান লেখা থাকে তার থেকে দেড়গুন অধিগ্রহনকৃত জমির ক্ষতিপূরন হিসাবে নির্ধারন করা হয়ে থাকে। তাছাড়া জমির শ্রেনীর উপরও ক্ষতিপূরন কম বেশি হয়ে থাকে। অনেক সময়ই আমরা দেখে থাকি জমির মালিক ন্যায্য ক্ষতিপূরন পাননা।ভূমি অধিগ্রহন দপ্তরের একশ্রেণীর অসাধু অসৎ কর্মচারীদের কারনে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হন।এই অসৎ কর্মচারীদের নানাবিধ দাবী দাওয়া এবং প্রলোভন থাকে। জমিতে গাছপালা,পাকা স্থাপনা ইত্যাদির জন্যেও আলাদা ক্ষতিপূরন প্রদানের বিধান রয়েছে।সরকার কর্তৃক নির্ধারনকৃত মূল্যমানে অসন্তুষ্ট হইলে যে কোন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি জেলা আরবিট্রেশন আদালতে ন্যায্য
ক্ষতিপূরনের জন্য মামলা দায়ের করতে পারেন।এই আদালতে মামলা করতে হলে সরকার কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে অধিগ্রহনের প্রদেয় টাকা উত্তোলন করতে নেই।মামলা দায়েরের সময় অবশ্যই ক্ষতিপূরন বাবদ প্রদত্ত চেকের ফটোকপি আর্জির সাথে সংযুক্ত করে দিতে হবে।মামলায় প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি অবশ্যই লাগাতে হবে।মামলা ফাইলিংয়ের পর আদালত সরকার পক্ষকে (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) কে নোটিশ দিয়ে জানাবেন এবং নোটিশের সাথে মামলার একটি আর্জিও সংযুক্ত থাকবে। সাধারনত সরকার পক্ষ নোটিশের জবাব দিতে গড়িমশি করে থাকেন তবে তাকে শেষপর্যম্ত নোটিশের জবাব দাখিলের মাধ্যমে মামলায় কন্টেস্ট করতে হয়। অবশেষে শুনানি অন্তে বিজ্ঞ বিচারক রায় প্রদান করে থাকেন। রায়ের মাধ্যমে আরবিট্রেশন আদালত ক্ষতিপূরন হিসাবে সর্বাধিক শতকরা দশ টাকা বাড়িয়ে রায় প্রদান করার অধিকার রাখেন। আরবিট্রেশন বা শালিসি আদালতের রায়েও যদি অধিগ্রহনকৃত জমির মালিক সন্তুষ্ট না হন তাহলে মালিক পক্ষ আরবিট্রশন আপিল আদালতে আপিল দায়ের করতে পারবেন।প্রতিটি জেলার বিজ্ঞ জেলা জজ সাহেব আরবিট্রেশন আপিল আদালতের বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।আপিল আদালত অতিরক্ত শতকরা পাচঁ টাকা ক্ষতিপূরন বৃদ্ধি করার এখতিয়ার রাখেন। অধিগ্রহন অধিদপ্তরের দূর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ফাদেঁ পা না দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আরবিট্রেশন আদালতের স্মরনাপন্ন হলে আইনের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে আদালত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।
Leave a Reply