প্রিয়.কম) মেডিটেশন কি শুধুই উপকারি? নাকি এর বিরূপ কোন প্রতিক্রিয়াও আছে? মনে শান্তি আনার উদ্দেশ্যে, ধৈর্য্য, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মেডিটেশন যেন একমাত্র উপায়। দিনকে দিন এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। কিন্তু মেডিটেশন বা ধ্যানেরও যে কিছু খারাপ দিক থাকতে পারে তা কি ভেবেছি আমরা কখনো?
আসুন প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ইতাই ইভতজেন মেডিটেশনের বিপদ সম্পর্কে কী বলেছেন জেনে নিই। তিনি ইস্ট লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লাইড পজিটিভ সাইকোলজি প্রোগ্রামের সিনিয়র প্রভাষক এবং প্রোগ্রাম লিডার।
অনেক বই বা সিডি পাওয়া যায় বাজারে মেডিটেশন সম্পর্কে। প্রত্যেক বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান দাবি করেন তাদের বলা পদ্ধতিটিই সঠিক মেডিটেশন পদ্ধতি। মেডিটেশনের একটা দারুণ ব্যাপার হল এটি আমরা মস্তিষ্কেই চর্চা করতে পারি। এর একটাই বিশেষ কোন অনুশীলনী থাকতে পারে না। কিন্তু ভুল পদ্ধিতিতে ধ্যান আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে। কল্পনাশক্তি, মনোযোগকে বিঘ্নিত করতে পারে।
ক্ষতিকর আবেগের সম্মুখীন হওয়া
মেডিটেশন করে হয়ত আজকে আপনার ভাল লাগছে, মনে শান্তি ফিরে পাচ্ছেন, কারো উপর রাগে যাচ্ছেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন মেডিটেশন করতে পারবেন তো? যদি চর্চা ধরে রাখতে না পারেন তবে আগের সমস্যা গুলো দ্বিগুন হারে ফিরে আসতে পারে। আর সারাজীবনই মেডিটেশনের নিয়মিত চর্চা কিন্তু না করতে পারাই স্বাভাবিক। কারণ আমরা মানুষ। এক সময় না এক সময় আমরা একঘেয়ে বোধ করি।
ধ্যান একটি দীর্ঘ সময় চর্চার বিষয়। এতে মনের ক্ষত পূরণ হয়। সকল মানসিক সমস্যার সমাধান মেডিটেশন নয়। অনেক ব্যাপারেই হয়ত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছেই যেতে হবে আপনাকে। আপনার মনের জটিল অবস্থা কারো সাথে আলোচনা করে, পরামর্শ নিয়েই ভাল হতে পারে। আমরা যদি সব সমস্যার সমাধান মেডিটেশন ধরে নিই তাহলে আমাদের প্রকৃত মানসিক সমস্যা হয়ত অধরাই রয়ে যাবে আর চিকিৎসার অভাবে আরও অসুস্থ হয়ে যাব আমরা।
ধ্যানের সময় মনকে শান্তি দিতে আমরা নানান কল্পনার আশ্রয় নিয়ে থাকি। কখনো নিজের মনকে নিয়ে যাই পাহাড়ে, কখনো ঝর্ণার কাছে, কখনো মেঘের কাছে। কিন্তু এগুলো কিছুই বাস্তবসম্মত নয়। কল্পনার জগতে এই বসবাস আপনার বাস্তব জীবনকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। জীবন তো আসলে নাটক নয়। সমস্যাগুলোকে সরাসরিই মোকাবেলা করে তবেই জীততে পারা যায়। তাই কল্পনার এই অভ্যস্ততা ক্ষতিকর হতে পারে।
মেডিটেশন অবশ্যই উপকারি। ক্ষতিকর দিকগুলো জেনে ধ্যান করা বন্ধ করে দেবেন তা কিন্তু এই লেখার মূল বক্তব্য নয়। নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে এর ক্ষতিকর দিকগুলোকে সামলে ধ্যানের চর্চা করে যান। কাঙ্ক্ষিত মানসিক শান্তি আপনি অবশ্যই পাবেন।
Leave a Reply