জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কবে এবং কীভাবে বিদায় নেবেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করা এ রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনও দুই বছরের বেশি বাকি থাকলেও তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবন-এ সকাল ১১টায় এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি নিজেই এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন বলে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উদ্বোধনী অধিবেশনের শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি তার কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রে পদত্যাগ করতে পারবেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় নতুন অধিবেশনে সভাপতিত্ব নিয়ে সাময়িক বিভ্রান্তি তৈরি হলেও কার্যপ্রণালি বিধিতে এর সমাধান রয়েছে। বিধি অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন প্রবীণ সদস্য সভাপতিত্ব করবেন এবং তার তত্ত্বাবধানে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
নতুন স্পিকার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। এছাড়া দলটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও শোনা যাচ্ছে।
ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন ভোলা-১ আসনের ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, নোয়াখালী-১ আসনের ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
সংবিধানের ৫০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের নোটিসে অভিশংসনের মাধ্যমেও রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিধান রয়েছে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও সাংবিধানিক সংকট এড়াতে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল তখন তার পদত্যাগের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
গত ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি নিজেই জানিয়েছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে আগ্রহী। তার ভাষায়, “আমি পদত্যাগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা উচিত বলেই অবস্থানে আছি।”
এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার আগেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘুরছে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আসন্ন অধিবেশন উপলক্ষে সব ধরনের প্রশাসনিক, অবকাঠামোগত ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অধিবেশনের প্রথম দিকেই অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ও প্রয়োজন হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টিও এ অধিবেশনে আসতে পারে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নজর ১২ মার্চের অধিবেশনের দিকে—সেদিনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরবর্তী গতি।
Leave a Reply